সর্বসাধারণ পারমাণবিক তথ্য কেন্দ্র
সাইটটি বাংলাদেশের পারমাণবিক শিল্প, পারমাণবিক শক্তি এবং বিকিরণ সুরক্ষার সাধারণ নীতিগুলি, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার এবং সঠিক উত্তর পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি পাবনা জেলায় শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার তথ্য সরবরাহ করে।
আপনি কি জানেন, একজন মানুষ তার সারা জীবনে গড়ে প্রায় ২,৩৫,০০০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন?
এটি হিসাব করা হয়েছে গড় আয়ু ৭২.৬ বছর এবং বর্তমান বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা ধরে।
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, একটি মুরগির ডিমের সমান আকারের ইউরেনিয়াম জ্বালানি একজন মানুষের সারা জীবনের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট।
একই পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে প্রায় ৮৮ টন কয়লা প্রয়োজন হবে।
(ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত)
আপনি কি জানেন, প্রেসারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টর (পিডব্লিউআর) পারমাণবিক বিভাজনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে?
ইউরেনিয়াম জ্বালানি রডে তাপ উৎপন্ন হয়, যা উচ্চচাপের প্রাথমিক পানি সার্কিটের মাধ্যমে দ্বিতীয় পানি সার্কিটে স্থানান্তরিত হয়। দ্বিতীয় সার্কিটের পানি বাষ্পে পরিণত হয় এবং সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
পিডব্লিউআর-এ বিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নেগেটিভ ফিডব্যাক এবং জরুরি অবস্থায় রিঅ্যাক্টর বন্ধ করতে বোরন ইনজেকশনও ব্যবহার করা হয়।
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত
আপনি কি জানেন, পারমাণবিক প্রযুক্তি আধুনিক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
সিটি স্ক্যান, রেডিওথেরাপি এবং অন্যান্য পারমাণবিক প্রযুক্তি রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এগুলোর মাধ্যমে চিকিৎসকেরা ক্যান্সারের মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা করতে পারেন।
পারমাণবিক বিজ্ঞান শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নয়—এটি প্রতিদিন মানুষের জীবন রক্ষা ও উন্নত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আপনি কি জানেন, পারমাণবিক বিভাজন (নিউক্লিয়ার ফিশন) হলো এমন একটি বিক্রিয়া, যেখানে একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস দুই বা ততোধিক ছোট নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হয়ে শক্তি নির্গত করে?
উদাহরণস্বরূপ, একটি ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াস একটি নিউট্রন শোষণ করলে এটি ব্যারিয়াম ও ক্রিপ্টনের মতো ছোট নিউক্লিয়াসে বিভক্ত হতে পারে এবং ২–৩টি নিউট্রন নির্গত করতে পারে। এই নিউট্রনগুলো পরবর্তী বিভাজন ঘটাতে পারে, ফলে একটি চেইন রিঅ্যাকশন (শৃঙ্খল বিক্রিয়া) তৈরি হয়।
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত
আপনি কি জানেন, এমএসআর এর পূর্ণরূপ হলো মল্টেন সল্ট রিঅ্যাক্টর?
এমএসআর-এ জ্বালানি এবং/অথবা কুল্যান্ট হিসেবে গলিত লবণ (মল্টেন সল্ট) ব্যবহার করা হয়, যা বিপুল পরিমাণ তাপশক্তি সঞ্চয় করতে পারে।
এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো:
-জ্বালানি থেকে বেশি শক্তি উৎপাদন করতে পারে
-কম পারমাণবিক বর্জ্য তৈরি করে
-প্যাসিভ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে—রিয়্যাক্টর অতিরিক্ত গরম হলে একটি লবণের প্লাগ গলে যায় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিক্রিয়া বন্ধ করে দেয়
-টেকসই জ্বালানি চক্রের সম্ভাবনা রয়েছে
নিরাপদ, দক্ষ এবং টেকসই পারমাণবিক শক্তির জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি।
