সর্বসাধারণ পারমাণবিক তথ্য কেন্দ্র
সাইটটি বাংলাদেশের পারমাণবিক শিল্প, পারমাণবিক শক্তি এবং বিকিরণ সুরক্ষার সাধারণ নীতিগুলি, প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার এবং সঠিক উত্তর পাওয়ার সুযোগের পাশাপাশি পাবনা জেলায় শিক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার তথ্য সরবরাহ করে।
ভেবে দেখেছেন কখনও—ইউরেনিয়াম আর রেডিয়াম কোথা থেকে আসে?
আসুন পরিচিত হই ইউরানিনাইট এর সাথে!
ইউরানিনাইট হলো সেই প্রধান খনিজ, যেখান থেকে আমরা ইউরেনিয়াম এবং রেডিয়াম পাই। এটি ইউরেনিয়াম ও থোরিয়ামের অ্যানহাইড্রাস অক্সাইড, এবং ন্যাস্টুরানের সাথে মিলে সম্পূর্ণ একটি ইউরেনিয়াম অক্সাইড সিরিজ তৈরি করে। স্বাভাবিকভাবেই তেজস্ক্রিয় হওয়ার কারণে ইউরানিনাইট হলো সেই মূল উৎস, যেখান থেকে ইউরেনিয়াম ও রেডিয়াম নিষ্কাশন করা হয়।
এটি একটি ছোট কিন্তু শক্তিশালী খনিজ— পারমাণবিক বিজ্ঞানে যার ভূমিকা বিশাল!
(ছবি: রোসাটম সাউথ এশিয়া ফেইসবুক পেইজ)
আপনি কি জানেন?
প্রতিটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তার পুরো জীবনচক্রে গড়ে প্রায় ২,০০,০০০ কর্মসংস্থানের বছর (জব-ইয়ার্স)সৃষ্টি করে। এর ফলে প্রকৌশলী, প্রকৌশল টেকনিশিয়ান, নির্মাণকর্মী, গবেষকসহ অসংখ্য দক্ষ পেশাজীবীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়!
(ছবি কৃতজ্ঞতা: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা)
আপনি কি জানেন, পারমাণবিক আইসব্রেকার “ইয়ামাল” জাহাজটি তার নাকে আঁকা তুষার–সাদা হাসির জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত? এই হাসিটি প্রথম যুক্ত করা হয়েছিল শিশুদের নর্থ পোল ভ্রমণের জন্য, আর এরপর থেকেই এটি জাহাজটির স্বতন্ত্র পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।
তবে ইয়ামালের কৃতিত্ব শুধু এই বন্ধুসুলভ চেহারাতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২০ সালের মে মাসে, আর্কটিক অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি বরফে আবৃত সময়গুলোর একটিতে, ইয়ামাল ইতিহাস গড়ে তোলে। এটি “ক্রিস্তোফ দে মার্জেরি”নামের একটি এলএনজি ট্যাংকারকে নর্দার্ন সি রুট দিয়ে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক আগেই নিরাপদে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায়—যা সারা বছর আর্কটিক নৌযাত্রা চালুর পথে একটি বড় অগ্রগতি।
আরও একটি অনন্য বিষয় হলো, ইয়ামালের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মারিনা স্তারোভোইতোভা—তিনি বিশ্বের প্রথম নারী পারমাণবিক আইসব্রেকার ক্যাপ্টেন।
(ছবি: রোসাটম সাউথ এশিয়া ফেইসবুক পেইজ)
আপনি কি জানেন, রোসাটম-এর তৈরি ভিভিইআর-১২০০ হলো ভিভিইআর-১০০০ রিয়্যাক্টরের একটি উন্নত সংস্করণ?
এই ৩য়+ জেনারেশন রিয়্যাক্টরে আধুনিক প্রকৌশল সমাধান ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। এটি প্রায় ১০০ বছর পর্যন্ত পরিচালিত হতে পারে, প্রায় ৯০% ক্ষমতা ব্যবহারের হার বজায় রাখতে পারে এবং ১৮ মাস পর্যন্ত রিফুয়েলিং ছাড়াই চলতে সক্ষম।
এই নকশাটি আরও দীর্ঘ সেবা জীবন, উচ্চতর বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা, এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রদান করে। অন্যান্য ভিভিইআর রিয়্যাক্টরের মতোই এতে দুই-সার্কিটের স্টিম উৎপাদন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়, যেখানে চাপযুক্ত সাধারণ পানি একই সঙ্গে কুল্যান্ট এবং নিউট্রন মডারেটর হিসেবে কাজ করে।
ছবি: কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত
পারমাণবিক শক্তি এত নিরাপদ কেন?
আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ডিফেন্স-ইন-ডেপথ নামে একটি নিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করে— যেখানে বহুস্তরের সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে। এর ফলে একটি স্তর ব্যর্থ হলেও অন্য স্তরগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
এই স্তরগুলো কীভাবে কাজ করে?
১ম সুরক্ষা স্তর: ফুয়েল ম্যাট্রিক্স ও ফুয়েল ক্ল্যাডিং তেজস্ক্রিয় পদার্থকে শক্তভাবে ভেতরে সিল করে রাখে।
২য় সুরক্ষা স্তর: রিঅ্যাক্টর কন্ট্রোল সিস্টেমের সীমানা আরও একটি শক্তিশালী সুরক্ষা দেয়।
৩য় সুরক্ষা স্তর: শক্তিশালী কনটেইনমেন্ট বিল্ডিং পরিবেশে কিছু বের হতে বাধা দেয়।
এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে, একটি শক্তিশালী সেফটি কালচার নিশ্চিত করে যে, সমস্ত সিস্টেম সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে পরিচালিত এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এখন নিশ্চিত আর নির্ভয় লাগছে না?
